Co-operative Society – way to economic freedom of the society, within the society by the society.
সঞ্চয় করুন, আপনার আগামী প্রজন্মের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা নিরাপদ করুন। – সমবায় স্লোগান
আজকের সঞ্চয় আপনার ভবিষৎ গড়ার হাতিয়ার। – সমবায় স্লোগান
Evaluation of Cooperative
শিল্প বিপ্লবের পর সম্পদ কতিপয় ব্যাক্তির হাতে পুঞ্জিভুত হয়। যার ফলে সমাজে শ্রেনী বৈষম্যের সৃষ্টি হয় অর্থ্যাৎ বিত্তবান ও বিত্তহীন এই দুই শ্রেনীতে সমাজ বিভক্ত হয়ে পড়ে। এতে সমাজের সাধারন মানুষ পুঁজিপুতি ও শিল্পপতিদেও দাসত্বেও শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়। স্বাভাবিক জীবনযাত্রার মান ক্ষুন্ন হয়।
এহেন অবস্থা থেকে মুক্তির জন্যে উনবিংশ শতাব্দির মাঝামাঝি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সাধারন মানুষ, শ্রমিক-কর্মী ও দরিদ্র জনগনের মধ্যে সমবায় আন্দোলন নামে নতুন মতবাদ দানাবেধে উঠে। এর মূল লক্ষ ছিল শিল্পপতিদের শোষন ও নিষ্প্রেশন হতে নিজেদের রক্ষা করে সংঘবদ্ধভাবে নিজেদের পারস্পারিক কল্যান সাধন। এ আন্দোলন পূর্নতা লাভ করে ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। পরবর্তীতে বিংশ শতাব্দির পূর্বেই বিশ্বের সর্বত্র সমবায় সমিতি গড়ে উঠে।
Co-Operative Society in Bangladesh
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সরকার ১৯৪০ সালের সমবায় আইনকে এদেশের সমবায় আইন হিসেবে গ্রহন করে এবং সমবায়ের উপর যথেষ্ট জোড় দেয়। পরবর্তীতে সমবায় আন্দোলনকে আরো জোরদার করার জন্য ১৯৫৯ সালে ডঃ আক্তার হামিদ খান বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (BARD) প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর ১৯৬০ সালে তৎকালীন সরকার পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচী (IRDP) গ্রহন করে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকার ১৯৮২ সালে (IRDP) কে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (BRDB) এ রুপান্তর করে।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর থেকে ১৯৮৪ সাল পযর্ন্ত বৃটিশ শাষনামলে প্রতিষ্ঠিত ১৯৪০ সালের সমবায় আইন অনুযায়ী সমবায় সংগঠন পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হত। কিন্তু ১৯৪০ সালের সমবায় আইন একটি স্বাধীনদেশের সমবায় চাহিদা পূরনে অপর্যাপ্ত হওয়ায় ১৯৮৫ সালে অধ্যাদেশ নং ১ (Ordinance No 1 1985) সমবায় সমিতি অধ্যাদেশ ১৯৮৪ (Co-Operative Societies Ordinance 1984) জারি করে এবং ১৯৮৭ সালে সমবায় বিধি চালু করা হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশের সকল সমবায় সমিতি এখনও ১৯৮৪ সালের সমবায় অধ্যাদেশ ও ১৯৮৭ সালের সমবায় বিধি মোতাবেক গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। এবং ৬ই নভেম্বর জাতীয় সমবায় দিবস হিসাবে পালিত হয়।
Definition of Co-operative Society
Mr. Calvart said It is a form of organization, where in-person voluntarily associate together as human beings, on a basic quality for the promotion of the economic interest of themselves.
According to co-operative societies ordinance, no 2 (F) 1984 – co-operative society means a society registered on deemed to be registered under this ordinance.
Professor Chembars said – cooperative society is an association for supplying goods for carrying some branch of industry, the profits going to the members.
সমশ্রেনীভুক্ত কতিপয় ব্যাক্তি সমঅধিকার ও দায়িত্বেও ভিত্তিতে পারস্পরিক কল্যানের পক্ষে সেচ্ছায় মিলিত হয়ে আইন অনুযায়ী যে সংগঠন গড়ে তোলে তাকে সমবায় সমিতি বলে।
Features of Co-Operative Society
১. গঠন প্রকৃতি: সমাজে মধ্যবিত্ত ও নি¤œবিত্ত কতিপয় ব্যক্তি সাধারণ উদ্দেশ্য সাধনের জন্যে যৌথভাব মুলধন সরবরাহ করে সেচ্ছায় সমবায় আইন অনুযায়ী সমবায় সমিতি গঠন করে। নির্দৃষ্ট ফরমে আবেদন করে সমবায় নিবন্ধকের অফিসে সমিতিকে নিবন্ধন করতে হয়। নিবন্ধিত হওয়ার সাথে সাথে কার্যক্রম শুরু করতে পারে।
২. উদ্দেশ্য: সমবায়ের প্রধান আদর্শ ও উদ্দেশ্য হলো পণ্য দ্রব্য উৎপাদন বা সরবরাহ করে সদস্যগনের বৈষ্যয়িক কল্যান সাধন। মুনাফ অর্জন নয় বরং সেবা প্রদান করা।
৩. আইনগত সত্তা: সমবায় আইন অনুযায়ী সমবায় সমিতি নিবন্ধিত বওে এর কৃত্রিম ব্যাক্তি সত্তা আছে। যার পলে এটা নিজ নাম ও সীল ব্যবহার করে সকল প্রকার কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।
৪. সদস্যপদ: যে কোন প্রাপ্তবয়ষ্ক নারী ও পুরুষ সমিতির নির্দৃষ্ট চাঁদা প্রদান করে এবং শেয়ার ক্রয় কওে সমিতির সদস্য হতে পারে, তবে এক ব্যক্তি একই ধরনের দুই সমিতির সদস্য হতে পারে না।
৫. সদস্য সংখ্যা: ১৮ বৎসর বয়স্ক কমপক্ষে ১০ জন সদস্য হতে হবে। সর্বোচ্চ অনেক হতে পারে। নাবালক কেউ সদস্য হতে পারে না, তবে অভিভাবকগন তাদের সন্তানের দায়িত্ব গ্রহন করত সদস্য হতে পারে।
৬. দ্বায়-দায়িত্ব: সমবায় প্রতিষ্ঠানের দায়দায়িত্ব তাদের ক্রয়কৃত শেয়ার মুল্য দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে নামের শেষে সমিতি শব্দটি ব্যবহার করতে হবে।
৭. মুলধন: সমিতির মুলধনের নির্দৃষ্ট সীমা নেই। যে পরিমান শেয়ার মুলধন নিয়ে এটা নিবন্ধিত হয় তার অধিক পরিমান শেয়ার সমিতি বিক্রি করতে পারে না। তবে অন্য কারো নিকট হতে ঋণ গ্রহনের মাধ্যমে এটা মুলদন বাড়াতে পারে। মোটকথা শেয়ার বিক্রি এবং ঋণের মাধ্যমে এটা মুলধন সংগ্রহ করতে পারে।
৮. শেয়ার মূল্য: সমিতির প্রতিটি শেয়ার মূল্য দশ টাকার কম হতে পাওে না। তবে বেশি হতে পারে।
৯. শেয়ার ক্রয়ের সর্বোচ্চ সীমা: সমবায়ের যে কোন সদস্য এককভাবে মোট মুলধনের ১০ ভাগের ১ ভাগ শেয়ার ক্রয় করতে পারে এর অধিক নয়।
১০. ঋণের সীমাবদ্ধতা: এটা সমিতির সদস্যগন ছাড়া অন্য কাউকে ঋন প্রদান করতে পারে না এবং কারো কাছ থেকে ঋন গ্রহন করতে পারে না। তবে সমিতির উপবিধির ক্ষমতাবলে এবং নিবন্ধকের অগ্রিম অনুমতি স্বাপেক্ষে সাধারন সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহন করে প্রয়োজনানুযায়ী তৃতীয় পক্ষকে বা তৃতীয় পক্ষ থেকে ঋন দান ও গ্রহন করতে পারে।
১১. মুনাফা বন্টন: সমিতির অর্জিত মুনাফার ৭৫% পর্যন্ত সদস্য গনের মধ্যে তাদের প্রদত্ত শেয়ার মুলধন ভিত্তিতে বন্টন করতে হয় এবং বাকী ২৫% সঞ্চিত তহবিলে জমা রাখতে হয়।
১২. সমবায়ের আর্দশ: অবশ্যই সমবায় আর্দশ ও নীতি সমূহ (সমতা, সততা, ন্যায়, বিশ্বাস ইত্যাদি) পালন করতে হবে।
১৩. সম ভোটাধিকার: এর প্রত্যেক সদস্যের ভোটদান ক্ষমতা সমান অর্থাৎ কেউ অধিক শেয়ার ক্রয় করলেও তাকে মাত্র একটি ভোট প্রদান করার ক্ষমতা দেয়া হবে।
১৪. গনতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা: এর ব্যবস্থাপনা অতন্ত গনতান্ত্রিক সদস্যগনের প্রতক্ষ ভোটে তাদের মধ্য হতে উযুক্ত পরিচালক নির্বাচন করে একটি পরিচালনা পর্ষদের হাতে এর ব্যবস্থাপনার দ্বায়িত্ব অর্পন কর হয়।
Basic Principals of Co-operative Society
- সেবা: সমবায়ের প্রধান নীতি হলো সেবা প্রদান করা, মুনাফ অর্জন নয়।
- সহযোগিতা ও সমঝোতা: সদস্যগনের মধ্যে পরস্পর সহযোগিতা, পারস্পরিক বিশ্বাস ও সমঝোতা বজায় রাখা ও ত্যাগের মনোভাব ছাড়া সমবায় সমিতি টিকে থাকতে পারে না। আর ত্যাগের জন্য প্রয়োজন পারস্পরিক বিশ্বাস ও সমঝোতা।
- সততা: বহু ব্যাক্তির সেচ্ছাসেবামুলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর অন্যতম নীতি হলো সততা ও কর্তব্যপরায়নতা। সততা সমবায়ের উন্নতির সহায়ক।
- গনতন্ত্র ও সমভোটাধিকার: গনতন্ত্রেও নীতিতে সমবায় সমিতি গঠিত ও পরিচালিত হয়। যে কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহনে সদস্যদেও মতামত গ্রহন করা হয়। অধিকাংশ সদস্যেও মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় এবং সমবায়ের প্রত্যেক সদস্যের ভোটাধিকার সমান।
- সাম্যতা ও একতা: একতাই বল এ নীতির উপর ভিত্তি কওে সমাজের বিভিন্ন স্তরের লোক নিজ নিজ ক্ষমতা নিয়ে সমবায় সমিতিতে একত্রিত হয়। সমতা ও সহযোগিতা সমবায়ের সংহতি আওে আর একতা সমিতিকে শক্তিশালী করে। সমবায় সমিতিতে আইনের দ্বারা সকল সদস্যের সমঅধীকার স্বীকৃত।
- সেচ্ছাসেবা মূলক সংগঠন: সমমনা কতিপয় ব্যাক্তি পারস্পরিক কল্যানের সেচ্ছাপ্রনোদিত হয়ে সমবায় সমিতি গড়ে তোলে বলে এটি সমবায়ের অন্যতম প্রধান নীতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মিতব্যয়িতা: সকল বিষয়ে সংকোচন বা মিতব্যয়িতা অর্জন সমবায় সমিতির আরেকটি প্রধান নীতি। ফলে এটি কম মূল্যে পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ করতে পারে।
Advantages of Co-Operative Society
- কম পরিচালনা ব্যয়: সমিতির সদস্যগন সেচ্ছায় ও বিনা পারিশ্রমিকে এর পরিচালনা কার্য চালায় বরেএর পরিচালনা ও প্রসাশনিক ব্যয় অতন্ত কম হয়।
- সঞ্চয়ে উৎসাহ প্রদান: এটা সমাজের নি¤œবিত্তদেও মধ্যে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে বিশেষভাবে সাহায্য করে। এর ফলে যে কোন প্রকার বিনিয়োগের জন্য মুলধন গড়ে তোলা সহজ হয়।
- কর্ম সংস্থান: এটা সদস্যদের এবং সমাজের বেকার লোকেদেও জন্য কর্ম সংস্থান করে দেশের বেকার সমস্যা দূরিকরনে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
- কর মুক্ত: আয়কর আইন অনুযায়ী সমবায় সমিতির অর্জিত আয়ের উপন কর মওকুফ করা হয়েছে।
- সরকারি সাহয্য ও ঋনের সুবিধা: সমবায় সমিতি সমূহ কম সুদে ঋন গ্রহন করতে পারে এবং সরকার বিভিন্ন প্রকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করে।
- ব্যবস্থাপনার প্রশিক্ষন: ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার সাথে কমবেশি প্রায় সকল সদস্য জড়িত থাকে ফলে তারা সংগঠন পরিচালনা বা ব্যবস্থাপনার প্রাথমিক প্রশিক্ষন ও উৎকর্ষতা লাভ করতে পারে।
- অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন: এটি সদস্যগনের আর্থিক উন্নতিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে এবং এর ফলে সামাজিক মর্যাদা ও বৃদ্ধি করে। যা সর্বপরি দেশের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ গড়ে তুলতে সাহয্য করে।
- মধ্যস্বত্তভোগী হ্রাস: সমিতির সদস্যগন সমিতির মাধ্যমে সরাসরি উৎপাদনকারীর নিকট থেকে সরবরাহ করে সদস্যদের নিকট বা সল্পলাভে বাজারে বিক্রি করে মুনাফা অর্জনকরতে পারে। এবং ব্যবস্থাপনা ব্যয় কম হওয়ায় সকলেই সার্বিক সুযোগ সুভিধা ভোগ করতে পারে এবং এতে করে মধস্বত্তভোগীদের কমিশন বাদ দিয়ে পন্য ও সেবা সরবরাহ করা সম্ভব হয়।
বিস্তারিত জানতে ও রেজিট্রেশন করার জন্য ভিজিট করুন http://www.coop.gov.bd